হতাশ হলেও হাল ছাড়েননি আইসিটি ও টেলিকম খাতের নেতারা
চলমান উন্নয়ন অব্যাহত এবং উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট সংসদে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২০ পাসের মাধ্যমে এ বাজেট পাস করা হয়।
অধিবেশনে বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন।
এসময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই খাতে ১৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ মঞ্জুর করে জাতীয় সংসদ।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে এক হাজার ৪১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাবনা পেশ করে কণ্ঠভোটে ইতিবাচক রায় পান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
একইভাবে নতুন অর্থবছরের বাজেটে ৩১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ মঞ্জুরি পেয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।
এদিকে ‘তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়া’ নিয়ে ডিজিবাংলা লাইভে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে প্রথম সারিতে কাজ করা সংগঠনগুলোর নেতারা।
দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, এইদুর্যোগ কালীন সময়ে টেকনোলজি দিয়ে আমরা সব কিছু করছি, অফিস আদালত, বাজার সব কিছুই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভব হচ্ছে। তাই আমরা আশা করি সরকার এই খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে। আমার সবগুলো প্রযুক্তি সংগঠন মিলে যে প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম সেগুলো বাস্তবায়ন আমরা এখনো দেখতে পাইনি।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি শাহিদ-উল মুনির বলেন, গত ৫-৬ মাস যাবত দেশের হার্ডওয়্যার ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা এই সেক্টর থেকে সরকারের কাছে বাজেট চেয়েছিলাম কিন্ত তার বাস্থবায়ন দেখতে পাইনি। সামনে আমাদের বড় মার্কেট রয়েছে তার জন্য আমাদের আগে থেকে প্রস্তুতি দরকার, প্রয়োজন এই সেক্টরে ভালো বাজেট। বিগ ডাটা, আইওটি, রোবোট্রিক্স এর মত প্রযুক্তি আসছে সেগুলো উন্নত করতে হলে যে বাজেট রয়েছে তা সঠিক ব্যবহার করতে হবে।
নতুন বাজেট মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেটে বাড়তি শুল্কের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়নি। ইন্টারনেটসহ সব সেবায় ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবে কোনো পরিবর্তন না এনে তা পাস হয়েছে।
মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ এই নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নতুন বাজেটে মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেটে বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার করতে আমরা বলেছিলাম। এই শুল্ক গ্রাহকের কাছ থেকে কাটা হবে। আমাদের গ্রাহক এখনো ডাটা নির্ভর হয়নি। যে তারা ইন্টারনেটে কথা বললে। দেশের ৬০ শতাংশ গ্রাহক ফিচার ফোন ব্যবহার করে। ফলে তারা যদি ফোনে কথা বলা কমিয়ে দেয় তাহলে ক্ষতি সরকারের হবে। দেশের শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে, ৫ শতাংশ ব্রডব্যন্ড ব্যবহারকারী যদি বাজেটে এখানে গুরুত্ব বেশি দেয়া হতো তাহলে জিডিবিতে এখান থেকে আরো বেশি লাভ করা যেত।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ইমদাদুল হক বলেন,আইএসপিবি পরিবারের পক্ষ থেকে ৩ টি প্রস্তাবনা ছিল তার বাস্থবায়ন হয়নি। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়, গ্রাহকের কাছ থেকে আমরা নিচ্ছি ৫ শতাংশ। আমরা বাজেটে চেয়েছিলাম সবগুলো স্তর সমান করার জন্য। আমাদের ব্রডব্যন্ড গ্রাহক ৫-৮ শতাংশ। এইভাবে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বেশি দিন ঠিকে থাকা কষ্টকর হবে।